সোমবার, ৩০ জানুয়ারি ২০২৩ | ১৭ মাঘ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

বীরশ্রেষ্ঠ মোস্তফা কামাল

সূর্য সন্তানের জন্মদিন ও কিছু কথা

প্রদীপ্ত মোবারক
১৬ ডিসেম্বর ২০২২ ১৫:০৯ |আপডেট : ১৭ ডিসেম্বর ২০২২ ০১:৩৩
বীরশ্রেষ্ঠ মোস্তফা কামাল
বীরশ্রেষ্ঠ মোস্তফা কামাল

আজ ১৬ ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবস, ১৯৪৭ এর ১৬ ডিসেম্বরের এ দিনেই রত্নগর্ভা মা মালেকা বেগমের কোল আলোকিত করে পৃথিবীতে এসেছিলেন বীরশ্রেষ্ঠ সিপাহী মোহাম্মদ মোস্তফা কামাল। আজ এই বীর সেনার ৭৫তম জন্মবার্ষিকী। এই সূর্য সন্তানের জন্মদিনে তার প্রতি ভালোবাসাসহ লিখছি আরো কিছু ক্ষোভের কথা।

ভোলা জেলার দৌলতখান উপজেলার হাজিপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। মোস্তফা কামালের পিতা হাবিলদার মো. হাবিবুর রহমান ও মাতা মালেকা বেগম। ৫ ভাই বোনের মধ্যে তিনি ছিলেন সবার বড়। ১৯৬৭ সালে কাউকে কিছু না বলে পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে যোগদান করেন। ১৯৭১ সালে মোস্তফা কামাল ২৪ বছরের যুবক। ৭ মার্চ জাতির পিতার ঐতিহাসিক ভাষণ শুনে আন্দোলিত হন তিনি। মহান স্বাধীনতার যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েন বীরদর্পে।

১৯৭১ এর ১৮ই এপ্রিল মুক্তিযোদ্ধাদের কাছে আধুনিক অস্ত্র ছিলো না। সংখায়ও অনেক কম তারা। আর পাকিস্তানি সৈন্যরা সংখায় ছিলো বেশি। ভারি অস্ত্র শস্ত্রে সজ্জিত তারা। হয় সামনা সামনি যুদ্ধ করে মরতে হবে, নয় পিছু হটতে হবে। কিন্তু পিছু হটতে হলেও সময় দরকার। ততক্ষণে দলের অন্য সদস্যরা সাবধানে পিছু হটেছেন। একসময় মোস্তফা কামালের গুলি শেষ হয়ে যায়। হঠাৎ করেই একটি গুলি লাগে তার বুকে। মাটিতে লুটিয়ে পড়েন ভোলা জেলার শ্রেষ্ঠ সন্তান,গোটা বাংলাদেশের বীর সন্তানদের মধ্যে অন্যতম মোস্তফা কামাল। একমাত্র বীরত্বের কারণেই সহযোদ্ধাদের প্রাণ রক্ষা পেয়েছে। দরুইনের মাটিতে সমাহিত করা হয় জাতির এই শ্রেষ্ঠ সন্তানকে। তাই একটা কথা খুব বুক ফুলিয়ে বলা যায় তিনি আমাদের বাংলাদেশের গর্ব এবং গোটা বাঙালি জাতির জন্য অহংকারের এক নাম।

আজ তার জন্মদিনে তারই জন্ম স্থানে জন্মগ্রহণ করা একজন সাধারন মানুষ হিসেবে আমি পরিতাপের সাথে এবং অভিযোগের সাথে বলছি, বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ মোস্তফা কামালের সমাধি দেখে হতাশ হচ্ছেন দর্শনার্থীরা। স্বাধীনতার অর্ধশত বছর পরেও এই বীর সন্তানের সমাধি ঘিরে অবকাঠামোগত কোনো উন্নয়ন হয়নি। বিভিন্ন স্থান থেকে আসা দর্শনার্থীদের বিপাকে পড়তে হচ্ছে নিয়মিত। সমাধিস্থল পরিদর্শন আসা দর্শনার্থীরা বলাবলি করছে বীরশ্রেষ্ঠর সমাধি যে মর্যাদায় সংরক্ষণ করা উচিত এখানে তেমন কোন ব্যবস্থা নেই। আমি মনে করি এ বিষয়টা গোটা জাতির জন্য লজ্জার বিষয়। এই মহান বীরের ইতিহাস নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে তার সমাধিস্থলের অবকাঠামোগত উন্নয়নের জোর দাবি জানাচ্ছি। 

ভোলা সদর থানার আলিনগর ইউনিয়নে তার নামে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে একটি ইন্টারমিডিয়েট কলেজ এবং ভোলা জেলা পরিষদের তত্ত্বাবধানে বীর শ্রেষ্ঠ মোস্তফা কামাল লাইব্রেরি ও জাদুঘর নির্মাণ করা হয় বীরশ্রেষ্ঠ মোস্তফা কামালের প্রায়ত পিতা এবং মাতার সমাধিস্থলের কাছাকাছি আলিনগর ইউনিয়নের মৌটুপী ৯ নং ওয়ার্ড এর সাহেবের কাচারিতে। মোস্তফা কামালের নামানুসারে এ গ্রামের নাম মৌটুপীর পরিবর্তন করে মোস্তফা কামালনগর করার পরিকল্পনা শুনেছিলাম জানিনা এর বাস্তবায়ন কতখানি হয়েছে বা কোন পর্যায়ে রয়েছে। যদি বাস্তবায়ন না হয়ে থাকে আশা করছি খুব দ্রুতই যথাযথ কর্তৃপক্ষ এটার বাস্তবায়ন করবেন। 

পরিশেষে বলতে চাই, জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের মধ্যে অন্যতম এই বীরের সমাধি স্থল সহ তার নামে নামকরণ করা যে সমস্ত প্রতিষ্ঠান রয়েছে তার যথাযথ সংরক্ষণ এবং মূল্যায়নের ব্যবস্থা নেওয়া অতীব গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছি। কেননা এই বীরের সকল স্মৃতিফলকই আমাদের তথা গোটা জাতির জন্য  শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার।


লেখক: প্রদীপ্ত মোবারক

কবি ও গবেষক



মন্তব্য করুন