সোমবার, ৩০ জানুয়ারি ২০২৩ | ১৭ মাঘ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

দুর্নীতির অভিযোগে ইউক্রেনে মন্ত্রীসহ শীর্ষ কয়েক কর্মকর্তা বরখাস্ত

অনলাইন ডেস্ক
২৪ জানুয়ারি ২০২৩ ২১:৫৬ |আপডেট : ২৫ জানুয়ারি ২০২৩ ১৪:১২
বিলাসবহুল জীবনযাপনের অভিযোগে বরখাস্ত করা হয়েছে প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ের সহকারী প্রধান কিরিলো টিমোশেঙ্কোকে
বিলাসবহুল জীবনযাপনের অভিযোগে বরখাস্ত করা হয়েছে প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ের সহকারী প্রধান কিরিলো টিমোশেঙ্কোকে

দুর্নীতির অভিযোগে ইউক্রেনের বেশ কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করা হয়েছে। রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধের মধ্যেই ইউক্রেনে সরকারি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির একাধিক অভিযোগ ওঠে।

বরখাস্ত কর্মকর্তাদের মাঝে রয়েছেন প্রেসিডেন্টের শীর্ষস্থানীয় এক উপদেষ্টা, চারজন সহকারী মন্ত্রী ও পাঁচজন আঞ্চলিক গভর্নর। ইতমিধ্যে অভিযোগ খতিয়ে দেখার নির্দেশ দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। তার নির্দেশের পরই শুরু হয়েছে দুর্নীতিবিরোধী অভিযান।

বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, একাধিক মন্ত্রী ও সরকারি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সম্প্রতি ঘুষ, খাদ্যদ্রব্য মজুত করে রেখে উচ্চ মূল্যে বিক্রি ও একজনের বিরুদ্ধে সরকারি অর্থে বিলাসবহুল জীবনযাপনের অভিযোগ ওঠে। এরপরই প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি দুর্নীতিবিরোধী অভিযানের নির্দেশ দেন। প্রেসিডেন্টের উপদেষ্টা মিখাইলো পোদোলিয়াক বলেন, দুর্নীতিগ্রস্ত কর্মকর্তাদের বিচারের আওতায় আনতে জনগণের মধ্য থেকে দাবি উঠেছে। এ অবস্থায় প্রেসিডেন্ট এমন ব্যবস্থা নিয়েছেন।

দুর্নীতিবিরোধী অভিযানের প্রথম ধাপেই সরকারের অনুমতি ছাড়া জ্যেষ্ঠ সরকারি কর্মকর্তাদের দেশত্যাগের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি।

নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, মঙ্গলবার (২৪ জানুয়ারি) প্রথম বরখাস্ত করা হয় প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ের সহকারী প্রধান কিরিলো টিমোশেঙ্কোকে। তিনি আঞ্চলিক নীতিনির্ধারণের বিষয়টি দেখতেন। এর আগে তিনি প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কির নির্বাচনী প্রচারণা দলেও কাজ করেছেন। গত ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়ার বাহিনী ইউক্রেনে হামলা শুরুর পর জেলেনস্কি সরকারের মুখপাত্রের ভূমিকায় আসেন টিমোশেঙ্কো। তার বিরুদ্ধে সরকারি অর্থে বিলাসবহুল গাড়ি ব্যবহার করার অভিযোগ উঠেছে। যদিও তিনি অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

বরখাস্তের পর এক টেলিগ্রাম বার্তায় প্রতিদিন ও প্রতিমুহূর্তে ভালো কাজ করার সুযোগ দেওয়ায় জেলেনস্কিকে ধন্যবাদ জানান টিমোশেঙ্কো।

সহকারী প্রতিরক্ষামন্ত্রী ভিয়াশ্চেস্লাভ শাপোভালভকেও বরখাস্ত করা হয়। শাপোভালভ সামরিক বাহিনীর সদস্যদের মধ্যে খাদ্য সরবরাহের দায়িত্বে ছিলেন। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ, অজানা প্রতিষ্ঠান থেকে বেশি দামে খাদ্যদ্রব্য কিনতেন। খাদ্যদ্রব্য মজুত রেখে উচ্চ মূল্যে বিক্রির জন্য চুক্তি করার অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে। মন্ত্রণালয় অবশ্য এসব অভিযোগ অস্বীকার করে একে কারিগরি ত্রুটি বলেছে। প্রতিরক্ষামন্ত্রী ওলেস্কি রেজনিকভের বিরুদ্ধেও একই অভিযোগ উঠেছে।      

এ ছাড়া সহকারী প্রসিকিউটর জেনারেল ওলেস্কি সিমোনেঙ্কো, কমিউনিটি ও আঞ্চলিক উন্নয়নবিষয়ক সহকারী মন্ত্রী ইভান লুকারিউ ও ভিয়াচেশ্লেভ নেগোদা, সামাজিক নীতিনির্ধারণবিষয়ক সহকারী মন্ত্রী ভিতালি মুজিশেঙ্কো এবং নিপ্রোপেত্রোভস্ক, জাপোরিঝঝিয়া, কিয়েভ, সুমি ও খেরসনের গভর্নররা পদত্যাগ করেছেন।

প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কির দল ক্ষমতাসীন সারভেন্ট অব দ্য পিপল পার্টির প্রধান ডেভিপ আরাখামিয়া বলেন, দুর্নীতিগ্রস্ত মন্ত্রী ও কর্মকর্তাদের কারাগারে যেতে হতে পারে।

দুর্নীতির দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে ইউক্রেনের। দুর্নীতিবিরোধী আন্তর্জাতিক সংস্থা ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল দুর্নীতি নিয়ে প্রতিবছর একটি তালিকা প্রকাশ করে। সংস্থাটির ২০২১ সালের তালিকায় দেখা যায়, দুর্নীতির ক্ষেত্রে ১৮০টি দেশের মধ্যে ওই বছর ইউক্রেনের অবস্থান ছিল ১২২তম। এদিকে ইউক্রেন যে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সদস্য হওয়ার আবেদন করেছে, সেখানে আবেদন গ্রহণের শর্তগুলোর মধ্যে অন্যতম একটি হচ্ছে দুর্নীতিবিরোধী অভিযান।



মন্তব্য করুন