শুক্রবার, ১৪ জুন ২০২৪ | ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

চাঁদের বুকে পাওয়া গেল ৯৬টি মুখ বাধা ব্যাগ!

অনলাইন ডেস্ক
২৪ আগস্ট ২০২৩ ১৫:৪১ |আপডেট : ২৫ আগস্ট ২০২৩ ১২:৫৭
চাঁদের বুকে পাওয়া গেল ৯৬টি মুখ বাধা ব্যাগ
চাঁদের বুকে পাওয়া গেল ৯৬টি মুখ বাধা ব্যাগ

চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে পা রেখে ইতিহাস তৈরি করেছে ইসরোর চন্দ্রযান-৩। ইতিমধ্যেই চাঁদের মাটিতে কাজ শুরু করেছে ল্যান্ডার বিক্রম এবং রোভার প্রজ্ঞান। ভারতই প্রথম দেশ যারা চাঁদের দুর্গম ‘কুমেরু’তে মহাকাশযান পাঠিয়ে নজির গড়ল। এই ঘটনার মধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ায় চাঁদের একটি ছবি ভাইরাল হয়েছে। এতে কিছু রহস্যময় মুখবাধা ব্যাগ দেখতে পাওয়া যায়, যা নিয়ে তৈরি হয়েছে প্রশ্ন।

দাবি করা হয়েছে, ভাইরাল ফটোটি সম্প্রতি তোলা কোনো ছবি নয়, ৫০ বছর আগের ফটো। জানা গেছে, একটি বা দুটি নয় ৯৬টি ব্যাগ দেখতে পাওয়া গেছে চাঁদে।

চাঁদের মাটিতে পড়ে আছে বিভিন্ন দেশের ল্যান্ডার, রোভার, যন্ত্রাংশ, ভাঙা মহাকাশযান ইত্যাদি। কিন্তু এতেই শেষ নয়। এ ছাড়াও বহু জিনিস আছে যার বেশির ভাগ অনিচ্ছা সত্ত্বেও চাঁদের মাটিতে রেখে এসেছেন মহাকাশচারীরা। আবার কয়েকটি জিনিস ফেলে এসেছেন ইচ্ছা করে।

মহাকাশচারীদের চাঁদে রেখে আসা স্মৃতিচিহ্নের মধ্যে রয়েছে মল থেকে গল্‌ফ বল, পতাকা, পরিবারের ছবিও।

চাঁদে গেলে অদ্ভুত যে সব জিনিস দেখতে পাওয়া যাবে, তার বেশির ভাগটাই আমেরিকার অ্যাপোলো অভিযানের মহাকাশচারীদের ফেলে আসা। মনে করা হয়, বিভিন্ন অ্যাপোলো অভিযানের কারণে সব মিলিয়ে প্রায় দুলক্ষ কেজি বর্জ্য জমা হয়েছে চাঁদের বুকে। এক নজরে দেখে নেওয়া যাক, চাঁদের বুকে কোন কোন জিনিস রেখে এসেছেন মহাকাশচারীরা।

সংখ্যার আধিক্যের কারণে প্রথমেই নজরে পড়তে পারে মহাকাশচারীদের ফেলে আসা মলভর্তি ব্যাগের দিকে। বলা হয়, এই ধরনের মলভর্তি ৯৬টি ব্যাগ পড়ে রয়েছে চাঁদের বুকে।

ফেরার সময় মহাকাশযানের বাড়তি ওজন কমানোর জন্যই চাঁদের বুকে মলের ব্যাগগুলি ফেলে এসেছিলেন মহাকাশচারীরা। পাশাপাশি, মহাকাশযানের মধ্যে যাতে কোনও অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি না হয়, সে কারণেও ওই ব্যাগগুলি চাঁদে ফেলে এসেছেন মহাকাশচারীরা।

চাঁদে অবতরণকারী মহাকাশচারীরা মোট ৯৬ ব্যাগ বর্জ্য ফেলে এসেছেন চাঁদে। নাসার মতে, সাদা জেটিসন ব্যাগগুলি নিশ্চিত ভাবে এখনও চাঁদের বুকে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে।

চাঁদে অবতরণকারী প্রথম দুই মহাকাশচারীর অন্যতম এডউইন অলড্রিন এপ্রিলে একটি টুইট করে জানিয়েছিলেন, ‘‘ভবিষ্যতে আমার মলভর্তি ব্যাগ যিনি খুঁজে পাবেন, তাঁর জন্য খুব খারাপ লাগছে।’’

অলড্রিন চাঁদে পা রাখা দ্বিতীয় ব্যক্তি হলেও তিনিই প্রথম মহাকাশচারী, যাঁর প্রস্রাব চাঁদের মাটিতে পড়েছিল।

মহাকাশ বিশেষজ্ঞ টিসেল মুইর-হারমোনির লেখা, অ্যাপোলো টু দ্য মুন: এ হিস্ট্রি ইন ফিফটি অবজেক্টস বই অনুযায়ী, অলড্রিনের প্রস্রাব সংগ্রহের ব্যাগটি চন্দ্রপৃষ্ঠে ফেটে যায় এবং প্রস্রাব চাঁদের মাটিতে ছড়িয়ে পড়ে।

মহাকাশচারীদের মলমূত্র ছাড়াও চাঁদের বুকে খোঁজ পাওয়া যেতে পারে আমেরিকার পতাকার। অ্যাপোলো-১১ অভিযানে গিয়ে ১৯৬৯ সালের ১৬ জুলাই চাঁদের মাটিতে পা রাখেন আর্মস্ট্রং এবং অলড্রিন। ফেরার পথে চাঁদের বুকে তাঁরা দেশের পতাকা রেখে এসেছিলেন।

যদিও পাঁচ দশক আগে আর্মস্ট্রং এবং অলড্রিনের রেখে আসা সেই পতাকা ঔজ্জ্বল্য হারিয়েছে। অতিবেগুনি রশ্মি এবং তাপমাত্রার কারণে বিবর্ণ হয়েছে পতাকার চেহারা। এ ছাড়া অ্যাপোলোর বাকি অভিযানে গিয়েও মহাকাশচারীরা চাঁদে পতাকা রেখে এসেছেন। সেগুলির অবস্থাও এত দিনে মলিন হয়েছে বলে মনে করে নাসা।

অ্যাপোলো অভিযানের সময় ফেলে আসা একটি বাজপাখির পালক এবং একটি অ্যালুমিনিয়ামের হাতুড়িরও দেখা মিলতে পারে চন্দ্রলোকে। অ্যাপোলো-১৫ অভিযানে গিয়ে মহাকাশচারী ডেভিড স্কট একটি পরীক্ষা করে দেখেন। একই সঙ্গে একটি হাতুড়ি এবং পাখির পালক এক উচ্চতা থেকে চাঁদের মাটিতে ফেলে দেন। মহাকাশের শূন্যতায়, উভয়ই প্রায় একই সঙ্গে চাঁদের মাটি স্পর্শ করেছিল। সেই পালক এবং হাতুড়ি পড়ে রয়েছে চাঁদের মাটিতেই।

১৯৭২ সালে অ্যাপোলো-১৬ অভিযানের অংশ হিসাবে চাঁদে গিয়েছিলেন মহাকাশচারী চার্লস ডিউক। মাত্র ৩৬ বছর বয়সে চাঁদে পা রেখেছিলেন তিনি। চার্লসই ছিলেন চাঁদে পা দেওয়া কনিষ্ঠতম মহাকাশচারী। স্ত্রী ডরোথি মেড ক্লাইবোর্ন এবং দুই পুত্রকে পৃথিবীতে রেখে মহাকাশযাত্রা করেছিলেন চার্লস।

চাঁদে যাওয়ার সময় নিজের পরিবারের একটি ছবি সঙ্গে নিয়ে গিয়েছিলেন চার্লস। চাঁদ থেকে ফেরার সময় সেই ছবিটি তিনি আর নিয়ে ফেরেননি। স্মৃতিচিহ্ন হিসাবে রেখে এসেছিলেন চাঁদের বুকেই। ছবিটি রেখে এসে সেই ছবিরও ছবি তুলেছিলেন চার্লস।

চাঁদে প্রথম পা রেখেছিলেন আর্মস্ট্রং, প্রথম আওয়াজ করেছিলেন অলড্রিন। আর চাঁদে প্রথম গল্‌ফ খেলেছিলেন অ্যালান শেপার্ড। অ্যালান এক জন পেশাদার গল্‌ফ খেলোয়াড় ছিলেন।

অ্যাপোলো-১৪ অভিযানের সময় তিনি চাঁদে গিয়েছিলেন। নাসাকে অনুরোধ করে চাঁদে দুটি গল্‌ফ বল এবং একটি ক্লাবও নিয়ে গিয়েছিলেন তিনি। সেখানে গিয়ে অ্যালান ওই দুটি বল নিয়ে খেলেছিলেন। চাঁদে খুঁজে পাওয়া যেতে পারে ওই বল দুটিও।

অ্যালান জানিয়েছিলেন, দুটি বলই অনেক দূরে গিয়ে পড়েছিল। তবে কোনও সংস্থা যাতে মুনাফা না করতে পারে, তার জন্য তিনি কোন সংস্থার বল নিয়ে চাঁদে গিয়েছিলেন তা কাউকে বলেননি। এই কথা আত্মজীবনীতেও লিখে গিয়েছেন অ্যালান।

জিন শুমেকার ছিলেন আমেরিকার এক জন ভূতাত্ত্বিক। অনেক ধূমকেতু এবং গ্রহ আবিষ্কারে তাঁর অবদান রয়েছে। শুমেকারের মৃত্যুর পর তাঁর অস্থিভস্ম একটি মহাকাশযানে করে চাঁদে পাঠানো হয়। শুমেকারই একমাত্র ব্যক্তি যাঁর অস্থিভস্ম চাঁদে রয়েছে।

অ্যাপোলো-১৫-র মহাকাশচারীরা ফলেন অ্যাস্ট্রোনট নামে একটি অ্যালুমিনিয়ামের ভাস্কর্য চাঁদের মাটিতে পুঁতে রেখে এসেছিলেন। বেলজিয়ামের শিল্পী পল ভ্যান হোয়েডনক এই ভাস্কর্য তৈরি করেছিলেন। স্মৃতিচিহ্ন হিসাবে সেই অ্যালুমিনিয়ামের ভাস্কর্যটি চাঁদে রেখে এসেছিলেন অ্যাপোলো-১৫ অভিযানের মহাকাশচারীরা।



মন্তব্য করুন

সর্বশেষ খবর
এই বিভাগের আর খবর