শুক্রবার, ৩ জুলাই ২০২৬ | ১৮ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মিয়ানমার থেকে বিস্ফোরণের শব্দ, সীমান্তে সতর্ক অবস্থানে বিজিবি

নিজস্ব প্রতিবেদক
৩ জুলাই ২০২৬ ০০:০৫ |আপডেট : ৩ জুলাই ২০২৬ ০০:০৫
ছবি :সংগৃহীত
ছবি :সংগৃহীত

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের অভ্যন্তরে সংঘাতের জেরে কক্সবাজারের টেকনাফ ও নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তে নজরদারি জোরদার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।

বুধবার (১ জুলাই) রাতে সীমান্তের ওপার থেকে ভেসে আসা বিস্ফোরণ ও ভারী অস্ত্রের শব্দে স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লেও বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সন্ধ্যা পর্যন্ত পরিস্থিতি স্বাভাবিক ছিল বলে জানিয়েছে প্রশাসন ও বিজিবি।

বৃহস্পতিবার বিকেলে টেকনাফের নাফ নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে নৌ টহল জোরদার করা হয়। একই সঙ্গে ড্রোনের সহায়তায় সীমান্তজুড়ে কঠোর নজরদারি চালানো হয়। প্রশাসনের পক্ষ থেকে সীমান্তবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের অযথা আতঙ্কিত না হয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।

প্রশাসন ও স্থানীয় একাধিক বাসিন্দা জানান, বুধবার (১ জুলাই) রাত প্রায় ৯টার দিকে মিয়ানমার সীমান্তের ওপার থেকে বিস্ফোরণ ও ভারী অস্ত্রের বিকট শব্দ ভেসে আসে। এতে টেকনাফ পৌরসভার চৌধুরীপাড়া, নাইট্যংপাড়া, নাজিরপাড়া, সাবরাং ও শাহপরীর দ্বীপ এলাকায় ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তবে রাত ১১টার দিকে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।

শাহপরীর দ্বীপের বাসিন্দা নুরুল আলম বলেন, প্রায় আট মাস ধরে সীমান্তে এমন কোনো শব্দ শোনা যায়নি। বুধবার রাত ৯টার পর একের পর এক বিস্ফোরণের শব্দের সঙ্গে যুদ্ধবিমানের উড়াউড়ির শব্দও শোনা যায়। এতে পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। 

টেকনাফ পৌরসভার জালিয়াপাড়ার বাসিন্দা সামি জাবেদ বলেন, বুধবার রাতে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেলেও বৃহস্পতিবার সকাল থেকে আর কোনো বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়নি। বিজিবি সতর্ক অবস্থানে থাকায় স্থানীয়দের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে।

জালিয়াপাড়ার আরেক বাসিন্দা দিল মোহাম্মদ বলেন, মিয়ানমারে সংঘাত শুরু হলেই সীমান্তবর্তী এলাকার মানুষ নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ে।

এদিকে বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টার দিকে টেকনাফ ২ বিজিবির সদস্যরা নাইট্যংপাড়া, বরইতলী ও জাদিমোড়াসহ বিভিন্ন সীমান্ত এলাকায় টহল পরিচালনা করেন। পাশাপাশি নাফ নদীতে নৌ টহল জোরদার এবং ড্রোনের মাধ্যমে নজরদারি চালানো হয়।

টেকনাফ ২ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল হানিফুর রহমান ভূঁইয়া বলেন, সীমান্তের ওপারে বিস্ফোরণের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে কিছুটা উদ্বেগ তৈরি হলেও সীমান্ত পরিস্থিতি এখন স্বাভাবিক। যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। সীমান্তজুড়ে টহল ও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম অনীক চৌধুরী বলেন, সীমান্ত পরিস্থিতি প্রশাসনের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছে। সীমান্ত এলাকার বাসিন্দাদের অযথা আতঙ্কিত না হয়ে সতর্ক থাকার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

এদিকে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তেও টহল জোরদার করেছে বিজিবি। তুমরু সীমান্তের বাসিন্দা সরওয়ার কামাল, বাইশফাঁড়ির শামশুল আলম ও চেরার মাঠ এলাকার ছৈয়দুল বশর জানান, মিয়ানমার অভ্যন্তরে যুদ্ধবিমানের শব্দ এবং বোমা নিক্ষেপের বিকট আওয়াজ তারা শুনেছেন।

নাইক্ষ্যংছড়ি ১১ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. ফয়জুল কবির বলেন, ওপারের সংঘর্ষ মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ বিষয়। বাংলাদেশ শান্তিতে বিশ্বাসী। তবে দেশের ভূখণ্ড নিরাপদ রাখতে বিজিবি কঠোর অবস্থানে রয়েছে। বর্তমানে সীমান্ত পরিস্থিতি স্বাভাবিক এবং দিনরাত টহল অব্যাহত রয়েছে।

এদিকে বৃহস্পতিবার সকালে রাখাইনের মংডু এলাকায় বিমান হামলার একটি ভিডিও রোহিঙ্গাদের যোগাযোগমাধ্যমভিত্তিক বিভিন্ন গ্রুপ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। তবে ভিডিওটি কখন ধারণ করা হয়েছে, তা স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি।

স্থানীয়দের মতে, গত বছরের ১৭ ডিসেম্বর উখিয়া-টেকনাফ সীমান্তেও একই ধরনের বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গিয়েছিল। তবে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে সীমান্ত পরিস্থিতি তুলনামূলক শান্ত ছিল।



মন্তব্য করুন

সর্বশেষ খবর
এই বিভাগের আর খবর